Grumpy Fish

Black Mirror

ব্ল্যাক মিরর এমন একটা টাইমে দেখা শুরু করেছিলাম যখন মাত্র Westworld সিজন ১ শেষ হলো। Westworld এর মুগ্ধতা, বিষন্নতা তখনও রয়ে গেছে। ওই সময়টায় অন্য কোন সিরিজ/মুভি ভাল লাগবে আশা করিনি। এদিকে আমার পক্ষে সিরিজ না দেখে থাকাও সম্ভব না। তাই পিসিতে আগে থেকে ডাউনলোড করে রাখা Black Mirror শুরু করে দিলাম। And boy I got hooked in just 15 minutes!

আগেই জানতাম ব্ল্যাক মিরর এপিসোডিক স্টোরি টাইপ সিরিজ। মানে একটা এপিসোডে একটাই গল্প থাকবে। সব মিলিয়ে ৩ সিজনে ১৩টা এপিসোড। ২ দিনেই ১৩ এপিসোড শেষ করার আশা নিয়ে বসলেও তা শেষ করতে লেগে গিয়েছিল প্রায় ৫ দিন। এর কারন একেকটা এপিসোড শেষ করার পর আপনি কিছুক্ষন ভাবতে বসবেন। আপনার মনের মধ্যে একটা ভয়াবহ শংকার সৃষ্টি হবে। আপনি কিছুক্ষন ভাববেন, আসলেই যদি এমন হয় তাহলে?

মূলত টেকনোলজির ডার্ক সাইড নিয়ে প্রতিটা গল্প। আমাদের নিয়ার ফিউচারে প্রযুক্তির ব্যবহার কতটা ভয়াবহ পর্যায়ে যেতে পারে তার একটা ধারনা দেয়া মাত্র। আমি কখনই টেকনোলজি-প্রেমী ছিলাম না, বরং টেকনোলজির প্রতি একটা বিরূপ মনোভাবই কাজ করে সবসময়। সেখানে যখন Charlie Brooker তার গল্পের মাধ্যমে এর ভয়াবহতা তুলে ধরে, তখন প্যানিক হওয়া স্বাভাবিক। Cyber Crime থেকে শুরু করে হিউমিলিয়েশন, নির্বাচনী প্রচারনা, হারিয়ে যাওয়া মানুষকে ফিরে পেতে তার মত দেখতে রোবট, ইউটোপিয়ান সোসাইটি, কিংবা অনলাইন পপুলারিটি। এর সবই যে কতটা মারাত্মক রূপ নিতে পারে তা উঠে এসেছে এখানে।

সিরিজটার প্রতিটা এপিসোড ইউনিক। Charlie Brooker নামক একজন মাস্টারমাইন্ড ক্রিয়েটিভ ব্যাক্তির মস্তিষ্কপ্রসূত গল্পগুলি। সায়েন্স ফিকশনে আমরা এককালে যেসব পড়ে আসতাম, Charlie Brooker সেটাকেই অন্য পর্যায়ে নিয়ে গেছে। তিনি দেখিয়েছেন এলিয়েন, স্পেসশিপ, রোবোট ছাড়াও সায়েন্স ফিকশন সিরিজ নির্মাণ করা সম্ভব। প্রায় প্রতিটা এপিসোডই একটার চেয়ে আরেকটা বেশি থট প্রভোকিং।

যেমন ১ম সিজনের শেষ এপিসড টায় ফলস মেমরি ক্রিয়েট করার ডিভাইস দেখানো হয়। আপনার কিছু মনে আসছে না? জাস্ট ওই ডিভাইসটাতে ক্লিক করবেন আপনার সকল মেমরি সামনে চলে আসবে! সেটাকে জুম করে, উপর রিওয়াইন্ড করে যখন খুশি তখন দেখতে পারবেন। জীবন খুব সহজ করে দিচ্ছে তাই না? কিন্তু যখন এই ডিভাইসই এক দম্পতির ডিভোর্সের কারন হয় তখন তা অবশ্যই আর ভাল লাগবে না। কিংবা ‘হোয়াইট ক্রিসমাসে’ এ যাদেরকে আপনার ভাল লাগে না তাদেরকে অনলাইনে ব্লক করে দিলে বাস্তবেও যখন ব্লকড হয়ে যায়, আর তার সাথে যোগাযোগের কোন ব্যাবস্থা থাকে না তখন সেটা কতটা ফলপ্রসূ? আপনার কাছের কেউ মারা গেছে? এখন যদি আপনাকে এমন একটা সুযোগ করে দেয়া হয় যেখানে আপনি তার সাথে কথা বলতে পারবেন? যে কিনা একদম আপনার প্রিয় মানুষটার মত করে কথা বলবে। আপনি কি সেই সুযোগটা ব্যবহার করবেন? এরকমই ছোট ছোট গল্প নিয়ে ব্ল্যাক মিরর এগিয়ে গেছে।

যদিও এর সবই বাস্তব হতে আরো বহু বহু বছর বাকি, টেকনোলজির এত উন্নতি হতে ঢের দেরী। আমাদের জীবনকালে হয়তো এসব দেখেও যেতে পারব না। কিন্তু এসব ডিভাইস, টেকনোলজি মানুষকে যে এক অস্তিত্ব সংকটের দিকে ঠেলে দিচ্ছে তা অস্বীকার করে উপায় নেই। আমরা এখন অনেকবেশি প্রযুক্তি নির্ভর। আমাদের চিন্তা ভাবনা অনলাইন-কেন্দ্রীক। অনলাইনে ভাল তো সব ভাল। প্রযুক্তির ভাল দিকও প্রচুর আছে তা স্বীকার করি, কিন্তু পুরোপুরি এর উপর ডিপেন্ডেড হয়ে পড়লে আমরা আমাদের নিজস্ব আইডেন্টিটিই একটা সময় হারিয়ে ফেলব সেটাও ভুললে চলবে না। ঠিক এই মেসেজটা প্রোভাইড করতে ব্ল্যাক মিরর পুরোপুরি সফল। আর এর সাথে অ্যাক্টরদের অভিনয়, ডিরেকশন সব কিছু নিয়ার পারফেক্ট ছিল। সাথে ছিল ব্রিটিশ ডিরেকশনের সফিস্টিকেশন। প্রতিটা এপিসোড প্রায় ১ ঘণ্টা করে, দেখতে বসলে এই ১টা ঘণ্টা ওয়েস্ট হবে না আশা করি।

আমার পছন্দের কিছু ব্ল্যাক মিরর এপিসোড:

  1. The Entire History of You (S01E03)
  2. Be Right Back (S02E01)
  3. White Christmas (S02E04)
  4. Nosedive (S03E01)
  5. Shut Up and Dance (S03E03)
  6. San Junipero (S03E04)
  7. Hated in the Nation (S03E06)